Short Story

গভীরে, আরো গভীরে

February 10, 2017
গভীরে

গত কয়েকদিন যাবৎ ইমরানের রাত-দিন যে কিভাবে অতিবাহিত হচ্ছে তা সে নিজেই টের পাচ্ছে না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই অফিসে দৌড়। সকাল থেকে রাত নয়টা-সাড়ে নয়টা অবধি চলে এক নাগারে কাজ।

মধ্যে শুধু বাথ রুম এবং দুপুরে খাওয়ার জন্য লেপটপের সামনে থেকে উঠে। আর সন্ধ্যার দিকে লেপটপের সামনে বসেই হালকা স্নেকস খেতে খেতে কাজ করে।

অফিস থেকে বেড়িয়ে বাসায় আসতে আসতে রাত দশটা সাড়ে দশটা বেজে যায়। সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে বাসায় ঢুকে ড্রেস চেঞ্জ করা এবং রাতের খাবার খেতে খেতে খবর দেখা। খাওয়া শেষ হলে শরীর আর বিছানা ছাড়া থাকতে পারেনা।

তখন বেজে যায় রাত বারটা। এদিকে ইমরানের জীবনেও বারটা বেজতে আর বাকি নেই।

বিছানায় যেতে ধেরি হলেও কখন যে ঘুম চলে আসে তা বুঝাই যায়না। জেগে দেখে সকাল হয়ে গেছে। আবার রেডি হয়ে শুরু হয় আরেকটি নতুন কর্মব্যস্ত দিন।

৫ মে দিনটিও ইমরানের জন্য কোন ব্যাতিক্রম ছিলো না।

গত কয়েকদিন যে ঝড়ের গতিতে রাত-দিন যাচ্ছিলো সেই দিনটিও ঠিক একই ভাবে যাচ্ছিলো।

সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ মার ফোন। কোন জরুরী খবর আছে? কারো কোন সমস্যা?

ইমরান আগেই মাকে বলে দিয়েছিলো খুব দরকার না হলে যেন তাকে ফোন দেওয়া না হয়। সময় সুযোগ করে ইমরান নিজেই মাকে ফোন দিবে।

কিন্তু মা কেন ফোন দিলো?

ইমরান কতক্ষণ মোবাইল স্কৃনের দিকে তাকিয়ে থাকলো।

রিসিভ বাটনে টিপ দিতেই ওপাশ থেকে মা বললেন, তুই এখন কোথায়?

মার কন্ঠে ভয়, উত্কন্ঠা। কথা বলার সময় মার গলা কাপছিলো।

ইমরানও ভয় পেয়ে গেলো।

ইমরান আস্তে করে বললো, আমিতো এই সময়ে অফিসেই থাকি। এখনও আমি অফিসেই আছি। কেন মা?

তুই কিছুই খবর পাসনি। মতিঝিলে অনেক মারামারি হচ্ছে। সারা ঢাকার অবস্থাও অনেক খারাপ। আমিতো টিভিতে দেখলাম। তুই আজকে আর বাসায় না গিয়ে অফিসেই থেকে যা।

বুঝা গেলো মা ইমরানকে নিয়ে খুবই চিন্তিত। তাই সে বললো, মা অফিসে আমার সাথে আরো বারো-চৌদ্দ জন কলিগ আছেন। সমস্যা হবে না। আর আমি বের হওয়ার আগে খবর দেখেই বের হবো। আপনি কোন চিন্তা করবেন না। মাকে বুঝিয়ে আপাতত সে ফোন রাখে দিলো।

ইমরান নিউজ আপডেট দেখার জন্য ইন্টারনেটে নিউজ সাইটগুলোতে ঢুকলো।

সবগুলো নিউজ সাইটেই অনেক হতাহত, ভাংচুর, আল্টিমাটাম-পাল্টা আল্টিমেটামের খবর দেখতে পাচ্ছে। মতিঝিলে রণক্ষেত্রের খবর। ইমরানের রক্ত হীম হয়ে গেলো।

সাথে সাথে লেপটপের উপর থেকে মুখ তুলে দাড়িয়ে বললো, ঢাকার অবস্থা ভালো না। গন্ডগোল হচ্ছে।

সবাই যার যার লেপটপ থেকে মুখ তুলে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।

সবাই দল বেধে রিসেপশনে  রাখা টেলিভিশন অন করলো। হেফাজতের অবস্থান কর্মসূচীতে ধর্মীয় নেতারা বক্তৃতা করছেন। কিছু দোকানে আগুন লাগানোর খবর দেখানো হচ্ছে, আবার গাছ কাটার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

আসলে সবাই কাজের মধ্যে ছিলো বলে কেউ খবরটি পায়নি। একজন অফিস অ্যাসিসটেন্ট ছিলো সে মাগরীবের নামাজ পড়ে সবার জন্য স্ন্যাকস নিয়ে আসবে। যেহেতু সে রিসেপশনে নেই তাই এতো ভয়াবহ কান্ড হয়ে গেলেও কেউ খবরটা পায়নি।

ম্যানেজার অফিস অ্যাসিসটেন্টকে ফোন দিয়ে তাড়াতাড়ি অফিসে চলে আসার জন্য বলে দিলেন। টেলিভিশন অফ করে সবাই আবার কাজে বসে গেলো।

কাজে মন দিতে পারছিলো না ইমরান। হানাহানির খবর দেখে তার মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেছে।

দুই বছর আর্মি ব্যাকড সরকারের পর একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসেছিলো। সরকারের শেষ সময়ে এসে আবার দেশের মধ্যে বিসৃঙ্খল অবস্থা ইমরানকে পিড়া দিচ্ছিলো।

এমন সময় আবার মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলো।

প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইল ফোনটা বের করে দেখলো ফাইজা ফোন দিয়েছে। সে ফোনটা রিসিভ করবে কি করবে না এই চিন্তা করছিলো। রিসিভ করলেই জানতে চাইবে ইমরান কোথায়। অফিসের কথা শুনলেই রাগারাগি শুরু করে দিবে।

টানা দুই সপ্তাহ ঢাকার বাইরে থেকে আসার পর অফিসে কাজের প্রচন্ড চাপ। তিন সপ্তাহ হতে চললো ফাইজার সাথে দেখা তো হয়ইনি ফোনে ভালো ভাবে কথা পর্যন্ত হয়না।

এমনিতেই খেপে আছে তারপর এখন যদি জানে অফিসে কাজ করছে তা হলে কি রিঅ্যাক্ট যে করবে তা ভাবতেই পারছেনা ইমরান। এই চিন্তা করতে করতে ফোনের রিংটা বন্ধ হয়ে গেলো। হাফ ছেড়ে বাচলো ইমরান।

কিন্তু না সাথে সাথেই আবার মোবাইলটা বেজে উঠলো। এবার আর রিসিভ না করে পারলো না। ভয়ে ভয়ে ফোনটা রিসিভ করলো।

ইমরান ফোন রিসিভ করে কথা না বলে চুপ করে আছে। ওপাশ থেকেও কোনো সাড়া শব্দ নেই। অবশেষে নিস্তবদতা ভাঙলো ফাইজাই। ফাইজা মাথাটা ঠান্ডা রেখে আস্তে করে জানতে চাইলো, তুমি কোথায়?

ইমরান এই বিপদের সময়ে মিথ্যা কথা বলতে চায়নি। ইমরান জানে এতে করে বিপদের সময়ে আরো বিপদ বাড়বে। এখন মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। ইমরানও আস্তে করে জবাব দিলো, আমি অফিসে।

ফাইজা নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলো না। চিত্কার করে বললো, আমি জানতাম তুমি অফিসেই থাকবে। তোমার এখন কাজই সবচেয়ে আপন। ঢাকার অবস্থা ভালো না আর তুমি এখনও তোমার কাজ নিয়ে আছো।

আমার কথাতো তুমি ভুলেই গেছো। আজ সতের দিন হলো তোমার সাথে আমার ডেট হয়না। তোমার মনে আছে লাস্ট তুমি আমার সাথে কবে ডেট করেছিলে? ফোনে একটু ভালোভাবে কথা বলতে পারিনা। যখন ফোন দেই তখনই তুমি ব্যাস্ত।

রাতে তুমি টায়ার্ড ঘুমিয়ে থাকো। ফোন দিলে বাজতেই থাকে রিসিভের নামে খবর নেই।  এটাকে কি ভালোবাসা বলে?

অন্যরা তাদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য কতকিছু করে। আমি তোমাকে ফাকি দিয়ে অন্য ছেলের সাথে টাংকি মারছি কিনা সে নিয়ে মনে হয় তোমার মধ্যে কোন চিন্তাই নেই।

আচ্ছা আমার খবর না হয় না ই নিলে নিজের কথাটা তো ভাববে নাকি? একটানা বলে শেষ করলো ফাইজা।

ফাইজার কথার সাথে দ্বিমত করার সুযোগ নেই। সবই ঠিক বলেছে।

ফাইজার সাথে তার লাস্ট কবে ডেট হয়েছিলো তা সত্যিই ইমরানের মনে নেই। ইমরানের নিজের উপরও রাগ হচ্ছিলো।

সে চিন্তা করলো এখন ফাইজাকে বুঝিয়ে ঠান্ডা রাখতে হবে।

বললো, তুমিতো জানো আমার পরীক্ষা আগামী জুন মাসে। আর প্রফেশনাল লাইফে একটু ব্যস্ততাতো থাকবেই। এই কাজটা যত তাড়াতাড়ি শেষ করতে পারবো তত তাড়াতাড়ি পরীক্ষার ছুটি পাবো। তাইতো আমি এতো পরিশ্রম করছি।

প্লিজ রাগ করোনা। আমি বাসায় পৌছেই তোমাকে ফোন দিবো। বলেই ইমরান ফোনটা রেখে দিলো।

ইমরান আবার কাজে ডুবে গেল।

ইতোমধ্যে ম্যানেজার এসে বলে গেছেন একটু দেড়িতে অফিস থেকে সবাইকে বের হতে। কারন বাইরে এখনও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। তিনি এও বললেন, রামপুরার রাস্তা  মালিবাগ পর্যন্ত বন্ধ।

ম্যানেজার থাকেন বাসাবো। তাই তিনি মগবাজারের রাস্তা দিয়ে যাবেন। ইমরান যেহেতু মগবাজারে থাকে তাই ম্যানেজার তাকে লিফট দিবেন।

ইমরান অবশ্য বিকল্প চিন্তাও করে রেখেছিলো। রিকশায় করে গুলশান দুই নাম্বার থেকে এক নাম্বার হয়ে শুটিং ক্লাব, হাতিরঝিলের উপর দিয়ে মধুবাগ দিয়ে ঢুকে মগবাজারে চলে যাবে।

এখন যেহেতু ম্যানেজারের সাথে প্রাইভেট কারে যেতে পারবে তাই আপাতত একটি চিন্তা কমলো। ইমরান চিন্তা করলো মানুষ যখন বিপদে পরে, নিজেকে অসহায় ভাবে তখন নিজেকে বাচানোর জন্য কতো উপায়ই না খুজে বের করার চেষ্টা করে।

ইমরান এবং তার কলিগরা অফিস থেকে বের হলো রাত সাড়ে দশটায়। সকালে অফিসে ঢুকার পর এই প্রথম বের হলো।

বাইরে বেরিয়ে দেখে রাস্তা ফাকা খা খা করছে। দুই একটি গাড়ি সাই করে চলে যাচ্ছে। রিকশার পরিমান খুবই কম।

ইমরান এবার সত্যিকার অর্থেই ভয় পেলো।

ম্যানেজার সবাইকে রিকশা ঠিক করে দিয়ে ইমরানকে নিয়ে গাড়িতে উঠলেন।

গাড়িটা সোজা শুটিং ক্লাব অতিক্রম করে লিংক রোড দিয়ে নাবিস্কোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নাবিস্কোর কাছাকাছি যেতেই তাদের চোখে পরলো কিছু মানুষ লাঠি হাতে নিয়ে এদিকে আসছে।

ইমরান এবং ম্যানেজার কি করবে বুঝতে পারছিলো না। ম্যানেজার ড্রাইবারকে গাড়ি আস্তে আস্তে চালাতে বললেন। নাবিস্কোর একটু আগে ব্রাক ব্যাংকের গলি থেকেও কিছু মানুষকে হাতে লাঠি নিয়ে বের হতে দেখা যাচ্ছে।

তারা কিছু বললেন না। লাঠি হাতে এতো মানুষ? এরা কারা?

সাত রাস্তায় এসে আরো বেশি মানুষ দেখা গেলো। গাড়ি আস্তে আস্তে মগবাজার রেল লাইনে চলে এসেছে। ইমরান আর মগবাজার মোড়ে না গিয়ে রেল লাইনেই নেমে পড়ছে। তারপর রেল লাইন দিয়ে হেটে বাসায় চলে এসেছে।

বাসায় এসে ঘড়িতে দেখে এগারটা বাজে। জামা-কাপড় চেঞ্জ করে প্রথমেই ইমরান মাকে ফোন দিয়ে তার বাসায় চলে আসার খবরটা জানিয়ে দিলো।

তারপর ফাইজাকে একটি এসএমএস দিয়ে খবরটা জানিয়ে দিলো। এবং বললো, ফ্রেশ হয়ে খাওয়া-দাওয়া করে ফাইজাকে ফোন দিবে।

ইমরান গোসল সেরে টেলিভিশন অন করে খেতে বসেছে। চ্যানেলগুলো স্ক্রলে একের পর এক ব্রেকিং নিউজ দিচ্ছে। নিউজ চ্যানেলগুলো সারা দিনের সহিংশতার ফোটেজ দেখাচ্ছে। কিছু চ্যানেলে সারা দিনের ঘঠনা প্রবাহ নিয়ে চলছে বিচার বিশ্লেষণ।

ইমরান যখন দৃশ্যগুলো দেখছিলো তখন নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিলো না। একই দেশের মানুষ নিজেদের মধ্যে এতো হানাহানি করছে! খাওয়া শেষ করে টেলিভিশনের ভলিউম কমিয়ে ইমরান ফোন দিলো ফাইজাকে।

ফাইজা আজ তুমি খুব টেনশনে ছিলে না? এর আগে এতো উৎকণ্ঠা তোমার মধ্যে দেখিনি। খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলে বুঝি?

হ্যা, অনেক ভয়ে ছিলাম।

শুধু আমি না আমার মনে হয় অনেকেই আজ খুবই চিন্তিত, ব্যথিত এবং ক্ষুব্ধ।

দেশের মধ্যে শান্তি সৃঙ্খলা না থাকলে কার ভালো লাগে বলো। এমন হানাহানির মধ্যে তুমি বাসায় আসোনি। কিভাবে আসবে এটা ভেবেতো দুশ্চিন্তা হবেই। কথাটা বলতে বলতে ফাইজার গলাটা জড়িয়ে গেলো।

আচ্ছা ফাইজা আজ সারাদিনের ঘঠনাগুলো আমাকে একটু সংক্ষেপে বলতে পারবে?

হ্যা, তা হলে শোনো।

পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী আজ হেফাজতের ঢাকা অবরুধের কর্মসূচী ছিলো। ঢাকার বিভিন্ন ট্রানজিট পয়েন্টে আজ সকাল থেকেই তারা তজবি, জায়নামাজ এবং শুকনো খাবার নিয়ে অবস্থান নেন।

সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে ঢাকা।

কিন্তু দিনের একপর্যায়ে এসে হেফাজতকে ঢাকায় আসার অনুমতি দেওয়া হয় শর্ত সাপেক্ষে যে সন্ধ্যার আগে তারা ঢাকা ছেড়ে চলে যাবেন।

তারা যখন ঢাকা আসা শুরু করে তখন গুলিস্তানে কিছু বইয়ের দোকানে কে বা কারা আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনে কিছু পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়ে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।

সন্ধ্যায় হেফাজত ঘোষণা দেয় তারা তাদের পূর্বে উত্থাপিত দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত মতিঝিল থেকে যাবেন না।

সরকার তাদেরকে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেন।

এদিকে সন্ধ্যার পর বিরোধী দলীয় নেতাও জনগণকে রাস্তায় নেমে এসে হেফাজতের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

এই ত্রিমুখী অবস্থানে আরো অনিশ্চয়তা বেড়ে যায়।

আজ রাতে কি হবে এখনও বুঝা যাচ্ছে না। আজ রাতটা যেন ভালোভাবে যায় আল্লাহর কাছে সেই কামনা করছি। ফাইজা শেষ করলো।

আচ্ছা ফাইজা হেফাজতের তের দফা আন্দোলন সম্পর্কে বলা হচ্ছে তারা দেশকে মধ্যযুগে নিয়ে যাওয়ার পায়তারা করা হচ্ছে। তোমাদের মেয়েদের চলাফেরা, নারী স্বাধীনতায়ও প্রভাব পরবে। তুমি কি মনে কর?

দেখ হেফাজত যেই তের দফা দাবি সরকারের কাছে পেশ করেছে তাতে কি হবে তা আমি বলতে পারবো না। আমি দার্শনিক নই। আর আমি সমাজবিজ্ঞানিও নই।

তবে আমি এটা বলতে পারি, আমি-তুমি যেই সুযোগ-সুবিধাগুলো পাই তারা তা পান না।

যেমন ধর, আমি তুমি বিভিন্ন দেশের ভালো ভালো মুভি, মিউজিক, নিউজপেপার, বই পরতে পারি। কম্পিউটার, লেপটপ, আইফোনসহ লেটেস্ট টেকনোলজি ব্যবহার করতে পারি।

তারা তা পাচ্ছেন না। তারা কি করছে?

দানের টাকায় যে মসজিদ-মাদ্রাসাগুলো চলে সেখানে পড়ছে। বাড়িতে বাড়িতে মিলাদ পড়িয়ে এবং মসজিদে নামাজ আর সকালে মক্তবে পড়িয়ে তারা যে সামান্য টাকা পান তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চালান।

তারা তাদের ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি যদি আধুনিক সব সুযোগগুলোও পেতেন তাহলে ভালো হতো। তুমি তাদের জন্য কিছুই করতে পারবে না কিন্তু তাদের কাছ থেকে তোমার সমকক্ষ চিন্তা চেতনা আশা করবে এটাতো হতে পারেনা।

তুমি ঠিকই বলেছ।

আগে আমাদের সবার জন্য সমমানের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। আর দেশ যখন উন্নত হবে তখন সকল কুসংস্কারই নির্মূল হবে।

ফাইজা হল্ড অন প্লিজ।

এই শোনো স্ক্রলে দেখাচ্ছে দিগন্ত টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে। এও দেখাচ্ছে যে, প্রায় দশ হাজার আইন-সৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনির সদস্য মতিঝিলে অপারেশন চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এখন রাখছি। পরে তোমাকে ফোন দিবো। বাই।

কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিজান শুরু হয়ে গেলো। সময় তেলিভিশন লাইভ দেখাচ্ছে।

ইমরান আজ লেপটপটা অফিসে রেখে এসেছে। লেপটপটা থাকলে ফেসবুকে আরো আপডেট দেখা যেতো। যারা মতিঝিল এলাকায় আছে তারা নিশ্চয় ফেসবুকে আপডেট দিবে।

টিভিতে এতোক্ষণ হেফাজতের বক্তৃতা শোনা যাচ্ছিলো। এখন আর শোনা যাচ্ছে না।

হঠাৎ অন্ধকার হয়ে গেছে চারপাশ। ইলেক্টৃসিটি কি চলে গেছে?

এখন আর টিভিতে কোন শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। অস্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে মানুষ ছোটাছুটি করছে।

কি হচ্ছে সেখানে এই চিন্তা মাথায় বার বার ঘোরপাক খাচ্ছে।

ইমরান টেলিভিশনটা অফ করে ঘরের লাইটটা নিভিয়ে দিলো। মুহূর্তের মধ্যে আলোয় পরিপূর্ণ রুমটা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে গেলো।

ইমরান অন্ধকারের গহীনে চলে যাচ্ছে।

তার চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে।

দেশ স্বাধীন করা হয়েছে একই দেশের মানুষ ভাই-ভাই মিলে থাকবে, সুখে-শান্তিতে থাকবে, একজন আরেকজনের বিপদে-আপদে এগিয়ে যাবে বলে। কিন্তু সেখানে তা না হয়ে উল্টো কেন মানুষ মারামারি করছে, হানাহানি করছে?

ইমরান আর কল্পনা করতে পারছেনা।

ইমরান প্রাণপণ দিয়ে চোখ বন্ধ করতে চেষ্টা করছে।

তার কাছে মনে হলো সে গভীর খাদে পরে যাচ্ছে। তার দেহ ঘুরতে ঘুরতে অনেক গভীরে পরে যাচ্ছে।

আরো গভীরে।

গভীর নিচে।

No Comments

Leave a Reply

shares